GAU

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ২০২৫ উদযাপন।

জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ২০২৫ উপলক্ষে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল ২০ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে বিনামূল্যে ভেটেরিনারি চিকিৎসা ও টিকাদান সেবা। এ সময় খামারি, প্রাণীপ্রেমীদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ভেটেরিনারি টিচিং হসপিটাল এলাকা। দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচির উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। ভেটেরিনারি টিচিং হসপিটাল এর পরিচালক প্রফেসর ড. অনুপ কুমার তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ আবদুল্লাহ্ মৃধা, প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম, পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভেটেরিনারি টিচিং হসপিটালের রিসিপশন ও ইনফরমেশন ডেস্ক উদ্বোধন করেন উপাচার্য। নতুন এ ডেস্কের মাধ্যমে রোগী নিবন্ধন, চিকিৎসা তথ্য প্রদান, নথি সংরক্ষণ ও ফলো-আপ সেবা আরও দ্রæত, সহজ ও জনবান্ধব হবে বলে বিবেচিত হচ্ছে। ভেটেরিনারি টিচিং হসপিটালের সহযোগী পরিচালক প্রফেসর ড. জীবন চন্দ্র দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ভেটেরিনারি মেডিসিন অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। এরপর আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘‘ প্রাণী যেহেতু কথা বলতে পারেনা সুতরাং মনুষ্য চিকিৎসকদের চেয়ে প্রাণী চিকিৎসকদের মানবিক মূল্য অনেক বেশি। বিনামূল্যে চিকিৎসা ও টিকাদান কর্মসূচি শুধু প্রাণীদের সুরক্ষা নয়, এটি খামারি পর্যায়ে রোগ প্রতিরোধ এবং প্রণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” বক্তব্যে উপাচার্য গাকৃবির এ প্রাণীচিকিৎসা হসপিটালকে দেশের শ্রেষ্ঠ হাসপাতাল বানানোর দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বক্তব্যের পর প্রাণীচিকিৎসা কার্যক্রমের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন তিনি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষক ও ইন্টার্ন শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে গবাদিপশু ও পোষাপ্রাণীর রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পরামর্শ, কৃমিনাশক, ভিটামিন এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রদান করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক টিকা দেওয়া হয়। সেবাদানকারীদের একনিষ্ঠ পরিশ্রমে কেবল এক দিনেই মোট ৬৫টি গরু, ১০৫টি ছাগল-ভেড়া, ২২৫টি হাঁস-মুরগি, ২৩টি বিড়াল, ১২টি কুকুর, ১৩টি কবুতর, ০৮টি পোষাপাখি সেবা পায়। কেবল গত এক বছরেই এ হসপিটালের মাধ্যমে ১৩৫১ টি বিভিন্ন জাতের প্রাণীর চিকিৎসা এবং ৯৭ জন খামারিকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। প্রাণীদের প্রতি মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে পরিচালিত এই কার্যক্রম খামারি ও সাধারণ মানুষের মুখে স্বস্তি এনে দেয়। একই সাথে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি সেবায় নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, দেশে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ উদযাপনের অংশ হিসেবে গাকৃবিতেও এটি উদযাপিত হলো।