গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন
![]() |
![]() |
![]() |
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে উদযাপিত হয়েছে শুভ জন্মাষ্টমী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী সংঘের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জন্মাষ্টমী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গতকাল ১৬ আগস্ট (শনিবার) দিনটি উদযাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরুতে সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় পূজা-অর্চনা। পূজা শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। প্রসাদ বিতরণ শেষে গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান জন্মাষ্টমী সংক্রান্ত অঙ্কিত বিভিন্ন স্থিরচিত্র পরিদর্শন করেন। পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে একটি আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার মোঃ আবদুল্লাহ্ মৃধা, প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং পরিচালক (ছাত্র-কল্যাণ) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির সনাতন ধর্ম অবলম্বী শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ। আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতির ছোঁয়ায় সজ্জিত এই আলোচনা জন্মাষ্টমীর ভাবগম্ভীরতাকে আরও গভীরতর করে তোলে। যার ধারাবাহিকতায় শুভেচ্ছামূলক বক্তব্যে রেজিস্ট্রার বলেন, “ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুধু একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় স¤প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানবতার কল্যাণ, পারস্পরিক স¤প্রীতি এবং শান্তির বার্তা বহন করে।” অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এমন উদার ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ দেশের সকল শিক্ষাঙ্গনের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ বলে বক্তৃতায় উল্লেখ করেন। এ সময় তাঁরা গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবিষ্যতেও ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উদযাপনের এই চর্চা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। শেষে উপাচার্য জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত “শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও সংস্কৃতি” শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার প্রদান করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “শ্রীকৃষ্ণের জীবন আমাদের শিক্ষা দেয় ন্যায় ও সত্যের পথে চলতে। ধর্মীয় বৈচিত্র্যের মধ্যেও মানবকল্যাণই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। জন্মাষ্টমীর এ দিনে আমরা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই শান্তি, স¤প্রীতি ও মানবতার সেবাই হবে আমাদের চলার পথ।” সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই আয়োজন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স¤প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও শিক্ষাঙ্গনে মানবতা, সহনশীলতা ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেবে এটাই সকলের প্রত্যাশা।


